স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক খাবারগুলো চিহ্নিত করুন এবং সেগুলো খাওয়া বন্ধ করুন!
একটি শিশু ভূমিষ্ট হতেই, কোনো রকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই, সে তার মায়ের বুকের দুধ খাওয়া শুরু করে দেয়। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ করা প্রতিটি জীবের সহজাত প্রবৃত্তি (Natural instinct) বা জন্মগত স্বভাব। আমাদের দেহের জন্য খাদ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। সুস্থ, প্রানবন্ত ও কর্মক্ষম জীবনযাপনের জন্য সঠিক ও সুষম খাদ্য (Balanced diet) গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী। নিত্যদিনের কাজের জন্য আমাদের শরীরের যে শক্তির প্রয়োজন হয়, শর্করা ও স্নেহ জাতীয় খাবার সে শক্তির যোগান দেয়। ধীরে ধীরে একটি শিশু, শিশু থেকে কিশোর, কিশোর থেকে তরুণ হয়ে উঠে, তার দেহের আকার বাড়তে থাকে, প্রোটিন জাতীয় খাবারের মাধ্যমেই দেহের এই বৃদ্ধি ঘটে থাকে। ভিটামিন ও খনিজ জাতীয় খাবার আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। রক্ত সঞ্চালন, দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন, খাদ্য পরিপাক এবং মলমূত্রের মাধ্যমে বজ্র পদার্থ নিষ্কাশনে পানির ভূমিকা অপরিসিম। এক কথায় খাদ্য আমাদের দেহে জ্বালনি হিসাবে কাজ করে। ভূল (বিমানের) জ্বালানি দিয়ে একটি গাড়ি চালালে গাড়ির ইঞ্জিনের যে অবস্থা হবে , ঠিক তেমনি ভূল (ক্ষতিকারক) খাবার আমাদের দেহের বারোটা বাজিয়ে দিবে। পুষ্টিবিজ্ঞানের মতে, অচেতনভাবে গ্রহণ করা কিছু খাবার আমাদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদী রোগের জন্ম দেয়। আমরা প্রায়ই স্বাদের জন্য এমন অনেক খাবার খাই, যেগুলো ধীরে ধীরে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে। সমস্যা হলো, এসব ক্ষতি একদিনে বোঝা যায় না; বরং বছরের পর বছর ধরে নীরবে শরীরের ভেতরে ক্ষয় সৃষ্টি করে। অতএব, আমাদের সকলের উচিত ভূল (ক্ষতিকারক) খাবারগুলোর ব্যপারে সচেতন হওয়া। আমাদের চারপাশে এত পরিমান অস্বাস্থ্যকর (ক্ষতিকারক) খাবারের ছড়াছড়ি যে, আমরা এ খাবার গুলোকেই সঠিক খাবার বলে ধরে নিয়েছি। এতসব রং বাহারি খাবারের ভিড়ে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারগুলো আমাদের চোখেই পড়ে না। বাহ্যিক চাকচিক্যতা, চটকদার বিজ্ঞাপণ ও সহজলভ্যতার কারনে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আমরা এতটাই আকৃষ্ট হয়ে পড়েছি যে, কোনটা খাদ্য আর কোনটা অখাদ্য তা বুঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি। সুতরাং, আমি আন্তরিক ভাবে চাই আপনারা এই বিষয়ে জানুন, বুঝুন এবং মেনে চলার চেষ্টা করুন, তাহলে সহজেই বুঝতে শিখে যাবেন সুস্থভাবে কিভাবে বাঁচা যায়।
২। খাদ্য কাকে বলে?