Green Signal

মানব দেহে ঔষধের প্রভাব-ঔষধ গ্রহণের পর দেহে কী ঘটে?

 আমরা প্রধানত দুইভাবে ঔষধ গ্রহণ করে থাকি; মুখে সেবন (Orally) ও সূচিপ্রয়োগ (Inject) করে। একটা মাথা ব্যাথার ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল আপনি মুখে দিয়ে গ্রহণ করলেন আর এমনি আপনার মাথা ব্যাথা কমে গেল, এরকম কিভাবে হয়? একটা ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল কি করে বুঝে কোথায় যেতে হবে এবং ওখানে গিয়ে কি করতে হবে? আমাদের দেহে ঔষধ কিভাবে কাজ করে তা বুঝতেই এই মজাদার আলোচনা।

মুখের মাধ্যমে যা কিছু আমাদের পাকস্থলীতে প্রবেশ করে সবকিছুই শরীরের জন্য খাদ্য  (Food), হোক সেটা কোনো ট্যাবলেট অথবা যেকোনো খাবার, বডি সেটাকে খাদ্য (Food) হিসাবেই ধরে নিবে। এ খাদ্য প্রথমে মুখে (Mouth), মুখ থেকে পাকস্থলীতে (stomach), পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে (intestine), অন্ত্র থেকে যাবে যকৃতে (liver) আর এই যকৃত বা লিভার সিদ্ধান্ত নিবে এই খাদ্যকনার পরবর্তি গন্তব্য কোথায়? যকৃত বা লিভার আমাদের দেহের সবচেয়ে বড় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন একটি অঙ্গ। একে ২য় মস্তিস্ক (Secound Brain) বলা হয়ে থাকে, কারণ এটি মস্তিষ্ককে জিজ্ঞাসা না করেই অনেক জটিল রাসায়নিক সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে। লিভারের একটি অসাধারণ ক্ষমতা হলো পুনরুৎপাদন (Regeneration) যদি লিভারের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা কেটে ফেলা হয়, তবে এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিজেকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে। লিভারে কোনো ধরনের অসুখ হলে তা খুবই তাড়াতাড়ি সেরে উঠে যদি আপনি সঠিক পন্থায় এর চিকিৎসা করেন। কিন্তু লিভারের সমস্যা যদি ঠিক না হয় তবে আপনি অল্পতেই অসুস্থ হয়ে পড়বেন আর একবার রোগাক্রান্ত হলে সহজে নিরাময় করাও আপনার পক্ষে সম্ভব হবে না, কারন ব্রেনই যদি ঠিক না থাকে তাহলে শরীরের অন্য সব অঙ্গ ঠিক থাকবে কি করে? অতএব, আমরা বুঝতে পারলাম লিভার মানব দেহের অতি গুরুত্বপুর্ন একটি অর্গান। এখন মূল আলোচনায় আসা যাক, লিভার মানব দেহে একজন দারোয়ান (Gatekeeper) এর মত কাজ করে। মুখ, পাকস্থলী, অন্ত্র হয়ে কোনো কিছু (খাদ্য) লিভারে এসে পৌঁছলে পরবর্তিতে এ সকল খাদ্যকণা কোথায় যাবে, কখন যাবে, আদৌ কোথাও যাবে নাকি দেহ হতে (পাতলা পায়খানা অথবা বমির মাধ্যমে) বের করে দিবে এ সব ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে আমাদের লিভার। আপনারা হয়ত দেখে থাকবেন, কেউ খাবার খাওয়ার পরে খাদ্যে বিষক্রিয়া (Food Poisoning) হলে সে ব্যক্তির অস্বাভাবিক বমি অথবা পাতলা পায়খানা হয়। খাদ্যে মিশ্রিত পয়জন বা বিষ রক্তে প্রবেশ করলে দেহের মারাত্মক ক্ষতি হবে এটা লিভার জানে, তাই ক্ষতিকর পয়জন বা বিষ রক্তে প্রবেশ করতে সে বাধা দেয় বা আটকে দেয় এবং পাতলা পায়খানা অথবা বমির মাধ্যমে সেগুলো দেহের বাহিরে বের করে দেয়। বমি বা পাতলা পায়খানা না হলে কখনও কখনও ফুড পয়জনিং এর কারনে অসহনীয় পেট ব্যাথা হয়ে থাকে। কিন্তু মনে রাখবেন, পেট ব্যাথা (Stomach ache), বমি (Vomiting), পাতলা পায়খানা (Loose motion) এগুলো কোনো রোগ বা অসুখ নয়, এসব হচ্ছে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Defence mechanism) এখন প্রশ্ন হল, কোনটা খাদ্য আর কোনটা অখাদ্য (Non food) বা বিষ এটা লিভার কি করে বুঝে? এ বিষয়টি বুঝাতে গিয়ে ডঃ বিশ্বরূপ রায় চৌধুরী যথাযোগ্য একটি উদাহরণ দিয়েছেন, তাঁর সে উদাহরণটি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। কল্পনা করুন, আপনার বাড়িতে একজন দারোয়ান (Gatekeeper) রেখেছেন এবং তাকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আমার ভাই-বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের লোকজন ব্যতিত অপরিচিত কেউ যেন এ বাড়িতে ঢুকতে না পারে। কিন্তু দারোয়ানতো আপনার ভাই-বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন কাউকেই কখনো দেখেনি তাদেরকে চিনেও না, তাহলে সে কি ভাবে বুঝবে কে প্রবেশাধিকার পাবে, কে পাবে না? এমতাবস্থায়, আপনি আপনার পরিচিতজনদের সকলের ছবি ও নামসহ লিস্ট আকারে দারোয়ানের কাছে দিয়ে বলে দিলেন যে, কেউ বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলে এই লিস্টের সাথে মিলিয়ে দেখবে, ঐ ব্যক্তির নাম ও ছবি যদি তলিকায় থাকে তবে তাকে বাড়িতে ঢুকতে দিবে নয়ত নয়। এখন দারোয়ানের জন্য এ কাজ করা খুব সহজ হয়ে গেল, কেউ আসলেই সে তাঁর কাছে থাকা তালিকার সাথে মিলিয়ে দেখে, নাম ও ছবির সাথে যদি মিলে যায় তবে বাড়িতে ঢুকতে দেয় নচেৎ ঢুকতে দেয় না। আপনার বাড়ির দারোয়ানের মত ঠিক একই রকম ভাবে আমাদের যকৃত (liver) কাজ করে।

প্রকৃতি যে সকল খাবার আমাদের জন্য খাদ্য হিসাবে সিলেক্ট করে রেখেছে সেসব খাদ্যের তালিকা, কাজের সুবিধার জন্য লিভার তার সিস্টেমে সেভ করে রেখেছে। যখনই আমরা কোনো কিছু খাই লিভার সে খাবার তার কাছে সংরক্ষিত তালিকার সাথে মিলিয়ে দেখে, মিলে গেলে ভিতরে (রক্তে) যেতে দেয়। কিন্তু যেসব খাবারের নাম তালিকাতে নেই সেগুলোকে লিভার বমির মাধ্যমে হোক বা পাতলা পায়খানার মাধ্যমে, যে কোনো উপায়ে শরীর থেকে বের করবেই করবে। লিভার ভালো করেই জানে অচেনা অজানা কোনো কিছু রক্তনালীতে প্রবেশ করলে আমাদের শরীরের নানা ধরনের সমস্যা হবে, বডির কোনো ধরনের ক্ষতি হোক এমনটা সে কখনও চায় না। যে কোনো ধরনের ক্যামিকেল লিভারের কাছে এক অজানা অচেনা বস্তু। ঔষধ, বিশেষ করে এলোপ্যাথিক ঔষধ নানা ধরনের রাসায়নিক কেমিক্যাল দিয়ে তৈরী। যে কোনো এলোপ্যাথিক ঔষধ যখন মুখের মাধ্যমে পাকস্থলী হয়ে লিভার পর্যন্ত যায়, লিভার সেগুলো আটকে দেয়, রক্তনালীতে প্রবেশ করতে দেয় না বরং বায়োট্রান্সফরমেশন (Biotransformation) নামক বিশেষ এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো বডির বাহিরে বের করে দেয়। অল্প কিছুদিন হয় এসব এলোপ্যাথিক ঔষধের আবিস্কার হয়েছে, এ সকল ঔষধের রেকর্ড লিভারের সিস্টেমে রক্ষিত (Saved) নেই, যে কারনে লিভারের কাছে এগুলো ভিন গ্রহের প্রানীর মত মনে হয়। এখন কথা হল, লিভার যদি সব ধরনের ঔষধকে আটকে দেয় এবং তা দেহের বাইরে বের করে দেয়, তাহলে আমরা যখন কোনো ঘুমের ট্যাবলেট খাই ঘুম চলে আসে, ব্লাড প্রেসারের ট্যাবলেট খেলে প্রেসার কমে যায়, জ্বরের ট্যাবলেট খেলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে যায়, এতে বুঝা যায় ঔষধ কোনো না কোনো ভাবে বডির ভিতরে প্রবেশ করতেছে, তাইতো ট্যাবলেট কাজ করতেছে।

মেডিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রি যখন বুঝতে পারল যে, কোনো ধরনের কেমিক্যালই (ঔষধও তৈরী হয় কেমিক্যাল দিয়ে ) মানব দেহে প্রবেশ করতে পারছে না, লিভার তা খুব সতর্কতার সাথে আটকে দিচ্ছে এবং বাহিরে বের করে দিচ্ছে। এমতাবস্থায়, মেডিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রি একটি বিশেষ পদ্ধতি “হাফ লাইফ ডোজ (Half life dosage)” আবিষ্কার করলো, যে পদ্ধতিতে লিভারকে ফাঁকি দিয়ে পরিমাণের অর্ধেক ঔষধ দেহের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। অর্থাৎ, যে পরিমাণ (৫ মিঃ গ্রাঃ) ঔষধ আটকানোর ক্ষমতা আমাদের লিভারের রয়েছে তার দ্বিগুন পরিমাণ (১০ মিঃ গ্রাঃ) ঔষধ ডাক্তার আপনাকে দিবে। অর্ধেক (৫ মিঃ গ্রাঃ) ঔষধ লিভার আটকে দিলেও বাকি অর্ধেক (৫ মিঃ গ্রাঃ) ঔষধের আছর হবে আপনার শরীরে। এক মাস, দেড় মাস বা দুই মাস পর যখন লিভার বুঝতে পারে-তাকে ফাঁকি দিয়ে ঔষধের কিছু অংশ দেহের ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে, তাৎক্ষনিক, সে তার ক্যাপাসিটি দ্বিগুন বাড়িয়ে দেয়। আপনার ডাক্তার বাবুও কম চালাক না, যেহেতু লিভার তার ক্ষমতা দ্বিগুন করেছে ডাক্তার বাবুও আপনার ঔষধের ডোজ বাড়িয়ে দ্বিগুন করে দিবে। এভাবে, লম্বা সময় ধরে চলতে থাকবে এই চোর-পুলিশের খেলা। একটি বিষয় গুরুত্বের সাথে মনে রাখবেন, আমাদের শরীর (Body) কোনো ধরনের ঔষধ বা কেমিক্যাল গ্রহণ করবে এ উদ্দেশ্যে তৈরী (Design) হয়নি, বরং আমাদের শরীর এভবে তৈরী-যেকোনো ধরনের কেমিক্যাল বা ঔষধ আমাদের দেহে প্রবেশ করলে লিভার তা সম্পুর্ন ভাবে বাধা দিবে এবং শরীর থেকে তা বের করে দিয়ে বডিকে কেমিক্যাল মুক্ত করবে। কিন্তু আমরা কি করি? আমরা ঔষধের ডোজ বাড়াতেই থাকি, বাড়াতে বাড়াতে এমন এক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে তখন লিভার হয় ফেল হয়ে যায়, নতুবা সে প্রতিজ্ঞা করে যে, যত উচ্চ মাত্রার ঔষধই আসুক না কেন তাকে দেহের ভিতরে যেতে দিবনা।

এ বিষইয়টি আরও একটু বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা করতে চাই।মনে করুন, আপনি ডায়াবেটিসের ঔষধ সেবন করতেছেন, ৫ মিঃ গ্রাঃ পরিমান ঔষধ আটকে দেবার ক্ষমতা আপনার লিভারের আছে মেডিসিন বিক্রেতারা এটা জানে, সেজন্য ডাক্তার আপনার জন্য ১০ মিঃ গ্রাঃ পরিমান ঔষধ প্রেসক্রাইব করবে, এতে হবে কি, অর্ধেক পরিমান (৫ মিঃ গ্রাঃ) ঔষধ লিভার আটকে দিলেও বাকি অর্ধেক (৫ মিঃ গ্রাঃ) আপনার রক্তে ঢুকে যাবে, এবং সেটুকু ঔষধের প্রভাবে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকবে। কিন্তু কিছু দিন (এক মাস, দেড় মাস, বা দুই মাস) পর লিভার বুঝতে পারে তার দুর্বল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারনে তাকে ফাঁকি দিয়ে অর্ধেক পরিমান ঔষধ রক্তে মিশে যাচ্ছে-যা দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, সাথে সাথে লিভার তার প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে দ্বিগুন করে দেয় যাতে সবটুকু (১০ মিঃ গ্রাঃ) ঔষধ আটকে দিতে পারে এবং দেহের বাহিরে বের করে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আপনার ডায়াবেটিসের ঔষধ আগের মত আর কাজ করবে না, বাস্তবেতো এমনটাই ঘটছে, পরিমাণ মত ঔষধ নিচ্ছেন কিন্তু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন হচ্ছে না। এমতাবস্থায়, আপনি পুনরায় ডাক্তার বাবুর নিকট গিয়ে যখন ঘটনাটি বলেন, তিনি ভালোভাবেই বুঝেন এখন কি করতে হবে! ডাক্তার বাবু যা করার তাই করেন-আপনার ঔষধের ডোজ আগের চেয়ে দ্বিগুন (১০ মিলি এর স্থলে ২০ মিলি) করে দেন। কিছু দিন পর, লিভার আবার তার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, ডাক্তার বাবুও ঔষধের ডোজ আগের চেয়ে দ্বিগুন করে। শুধু ডায়াবেটিসের ঔষধের বেলায় নয়, ব্লাড প্রেসারের ঔষধের বেলায়, ঘুমের বড়ি (ট্যাবলেট), এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর বেলায় একই ঘটনা ঘটে। কিন্তু মেডিসিন আর লিভারের মধ্যে এই চোর-পুলিশ খেলা এক সময় থেমে যায়। একটা সময় লিভার তার প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী করে তোলে যে, সর্বোচ্চ মাত্রার ঔষধ গ্রহণ করলেও বিন্দু পরিমান ঔষধও দেহের ভিতরে ঢুকতে পারে না, লিভার সবটুকু ঔষধই আটকে দেয় এবং দেহের বাহিরে বের করে দেয়। ফলে, হাই পাওয়ারের আধিক মাত্রার ঔষধ সেবন করেও আপনার ডায়াবেটিস আর নিয়ন্ত্রন হয় না। এমতাবস্থায়, আপনি কি করবেন? অবশ্যই আবার ডাক্তারের কাছে দৌড়ে যাবেন-হাই পাওয়ারের আধিক মাত্রার ঔষধ সেবন করতেছি কিন্তু কাজতো হচ্ছে না, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন হচ্Orally) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রহন করা সব ধরনের ঔষধ আটকে দিচ্ছে সেক্ষেত্রে ডাক্তার সাহেব বিকল্প সূচিপ্রয়োগ (Inject) পদ্ধতির সিদ্ধান্ত নিবে। এই প্রক্রিয়ায় লিভারকে পাশ কাটিয়ে (bypassed) এক চোরাই পথে, ইনজেকশনের মাধ্যমে ঔষধ সরাসরি রক্তনালীতে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। যেহেতু ঔষধ (উচ্চ মাত্রার) মুখে সেবনের মাধ্যমে কোনো ভাবেই, ব্লাড সুগার স্বাভাবিক বা নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব হচ্ছে না, সে জন্য ডাক্তার সাহেব আপনাকে ইনসুলিন (Insulin) প্রেসক্রাইব করবেন। হাই ব্লাড সুগার আপনার শরীরের জন্য যতটুকু ক্ষতিকর তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি ক্ষতিকর হচ্ছে এই ইনসুলিন(poison)-আপনার লিভার তা ভালোভাবেই জানে। তাই আপনি যদি ইনসুলিন (তরল পদার্থ) মুখে পান করেন তবে সাথে সাথে লিভার সবটুকু ইনসুলিন বিনষ্ট করে দিবে এবং দেহের বাইরে বের করে দিবে।

আমরা জানতে পারলাম যে, লিভার অর্ধেক পরিমাণ ঔষধ আঁটকে দিলেও বাকি অর্ধেক পরিমাণ ঔষধ লিভারকে ফাঁকি দিয়ে আমাদের রক্ত সংবহন তন্ত্রে ঢুকে পড়ে। যে কোনো ঔষধ যখন রক্ত সংবহন তন্ত্রে ঢুকে, তখন সেগুলো রক্তনালীতে (Blood vessel) চলাচল (Travel) করে যেভাবে খাদ্য ও অক্সিজেন ট্রাভেল করে। আগেও একবার উল্লেখ করেছি, আমাদের বডি কোনো ধরনের ঔষধ গ্রহণ করবে এ উদ্দেশ্যে তৈরী হয়নি। অনুরূপভাবে, আমাদের রক্তনালীতে কেমিক্যাল চলাচল করবে এজন্য এটা তৈরী হয়নি। আমাদের রক্তনালীর একেবারে ভেতরের স্তরটি (Inner layer) এন্ডোথেলিয়াম স্তর (Endothelium layer) নামে পরিচিত, এই স্তরটি অত্যন্ত নাজুক প্রকৃতির। যখনই কোনো ঔষধ রক্তনালী দিয়ে চলাচল করতে থাকে, তখন কেমিক্যালের তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে এন্ডোথেলিয়াম লেয়ারের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতের সৃষ্টি হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে সেখানে প্রদাহ (Inflammation) দেখা দেয়। এন্ডোথেলিয়াম লেয়ারে

Scroll to Top